ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ , ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-২৮ ১১:৪৯:৫১
বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে স্পট গোল্ডের মূল্য ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৭৬ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে যায়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে অবশ্য তিন মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে উঠেছিল মূল্যবান এই ধাতুটি।

 

বর্তমান ডলার বিনিময় হার অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে এক আউন্স স্বর্ণের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি গ্রাম স্বর্ণের মূল্য প্রায় ১৮ হাজার ১০০ টাকা এবং প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার টাকা।

 

তবে আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট মূল্য ও বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারদর এক নয়। দেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর, শুল্ক, মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হওয়ায় চূড়ান্ত মূল্য ভিন্ন হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। এতে প্রতি আউন্সের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬২৯ ডলার।

 

স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসনের মতে, কেভিন ওয়ারশের কাছ থেকে তুলনামূলক কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিত আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদে সাম্প্রতিক উচ্চ অবস্থান থেকে সোনার দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

তবে এই দরপতনকে বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবেও দেখছেন অনেকে। সিম্পসনের ভাষ্য, সোনার দাম প্রথম দফায় বাড়ার সময় যারা বাজারে প্রবেশ করতে পারেননি, তারা এখন অপেক্ষাকৃত কম দামে বিনিয়োগের সুযোগ নিতে পারেন।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জ্যাকসন হোল সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর আগের দিন প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুলাই পর্যন্ত এক বছরে ফেডারেল রিজার্ভের মূল্যস্ফীতির প্রধান সূচক পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার্স (PCE) মূল্যসূচক ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।

 

শুক্রবার সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের। সুদের হার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তার বক্তব্যে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, সেটিই এখন বিনিয়োগকারীদের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।

 

সিএমই ফেডওয়াচের হিসাবে, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ। আর ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বাজারে ৭৪ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উচ্চ সুদে কমে স্বর্ণের আকর্ষণ


মূল্যস্ফীতির সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন অনেক বিনিয়োগকারী। তবে সুদের হার বেশি থাকলে সোনার চাহিদা সাধারণত কমে যায়। কারণ স্বর্ণ কোনো সুদ বা নির্দিষ্ট আয় দেয় না।

অন্যদিকে এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) ও ফিউচারস বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় সোনার দামে এখনো কিছুটা সমর্থন রয়েছে।

 

তবে ওসিবিসির মূল্যবান ধাতু কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওয়ংয়ের মতে, সামনে স্বর্ণের বাজারে আরও কিছুটা দরপতন কিংবা সাময়িক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি রয়েছে।



 

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ